সামনে আ. লীগের কারো ভোট করার অধিকার থাকবে না: খসরু


দৈনিক আলোড়ন
সামনে আ. লীগের কারো ভোট করার অধিকার থাকবে না: খসরু

আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না বলে ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা মতামত দিচ্ছেন, তাদেরকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনাদের আগামী দিনে কারো নির্বাচন করার অধিকার থাকবে না। বাংলায় একটা কথা আছে, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। আওয়ামী লীগের প্রতি আমার অনুরোধ রইল, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আমীর খসরু। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ‘চক্রান্ত’ করছে সরকার।

আমির খসরু বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বেগম জিয়াকে নির্বাচনে যেতে দেওয়া যাবে না, রাজনীতি করতে দেওয়া হবে। আরে আপনারা কে? কতগুলো অবৈধ লোক জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন। যেখানে কোনো আইনের শাসন নাই, সেখানে আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন আপনারা!

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালে কারাগারে যেতে হয়। পরে পরিবারের আবেদনে সরকার ২০২০ সালের মার্চে নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তি দেয়।

দণ্ডিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা। বিশেষ শর্তে মুক্তি পাওয়ার পর কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাকে দেখা যাচ্ছে না।

তার নির্বাচন ও রাজনীতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ বলছেন তিনি রাজনীতি করতে পারবেন। কেউ বলছেন পারবেন না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ মনে করেন, দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা আগামী নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন না। পাশাপাশি যে শর্তে তিনি সাময়িকভাবে মুক্ত আছেন, তাতে তার রাজনীতি করারও সুযোগ নেই। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক মত দিয়েছেন, তার রাজনীতি করতে বাধা নেই।

সাময়িক মুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, খালেদাকে তার গুলশানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

সে প্রসঙ্গ ধরে সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে রাজনীতি করার বিষয়ে শর্তে কিছু নেই।

ক্ষমতাসীন দলের এই নেতাদের হুঁশিয়ার করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে বলেন, এই যে কথাটা (খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না) বলেছেন আপনারা, এটা মনে রাইখেন। এই ১২ বছরের সব গুম-খুন…আকাশচুম্বি দুর্নীতির মামলা, সব যদি আগামীতে করা হয় আপনাদের বিরুদ্ধে তাহলে সংসদের তিনশ সিটের মধ্যে একটা সিটেও অংশ নিতে আপনারা পারবেন না।

তিনি হুশিয়ার করে বলেন, সবাই জেলে যাবেন, সবাই আইনের সম্মুখীন হবেন। সুতরাং যারা এই সব কথা বলেন, বেগম জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না- মাথায় রেখে বলবেন।
ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ ধরে আমীর খসরু বলেন, ওই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কতটা মামলা ছিল? বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে যতটা ছিল, তার দ্বিগুণ মামলা ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তার দলের লোকজনের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। ক্ষমতায় এসে তারা তাদের সব মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।

আমি বলতে চাই, আগামীতে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না। কারণ আপনারা সবাই দুর্নীতিবাজ, সবাই হত্যাকারী, সবাই দলের সাথে অংশীদার, সবাই মিথ্যা মামলার অংশীদার, সবাই খুনের সাথে অংশীদার। আপনাদের আগামী দিনে কারো নির্বাচন করার অধিকার থাকবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মসূচি হয়।

সরকার হটানোর ১০ দফা আন্দোলনে সবাইকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, আগামী দিনে যে আন্দোলন তা চলবেই। কত লোক জেলে নেবে, কোনো কাজ হবে না। বিএনপির লক্ষ লক্ষ সৈনিক। ৪০ লক্ষ তো আপনারা মিথ্যা মামলায় আসামিই করেছেন।

‘আরে মশাই এই ৪০ লক্ষ লোক যদি রাস্তায় নামে, আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই বলে দিতে চাই, জেল-জুলুম করে লাভ হবে না। ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোজাম্মেল হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।