
লেখক: অপূর্ব আহমেদ জুয়েল:- গণতন্ত্রের নামে যারা সবচেয়ে বেশি স্লোগান দেয়, বাস্তবে তারাই যখন জনগণের রায়কে সবচেয়ে আগে অস্বীকার করে—তখন ইতিহাস খুব নীরবে একটা শব্দ লিখে রাখে: ভণ্ডামি।
গণভোট হলো জনগণের সরাসরি কণ্ঠ। পার্লামেন্ট নয়, দল নয়—রাষ্ট্রের মালিক জনগণ নিজেই সেখানে সিদ্ধান্ত দেয়। সেই সিদ্ধান্ত যখন আসে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, তখন কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ ছিল মাথা নত করে সেই রায়কে সম্মান জানানো।
কিন্তু বিএনপি করলো না।
শপথ নেয়নি তারা। এড়িয়ে গেছে জনগণের ম্যান্ডেট। আইনের ফাঁক দেখিয়ে নৈতিকতার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।
এটাই কি তাদের গনতন্ত্র?
যে দল বছরের পর বছর বলে এসেছে—দেশ সংস্কার চাই, রাষ্ট্র বদলাতে হবে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে—সেই দলই যখন সংস্কারের প্রথম ধাপেই পিছু হটে, তখন প্রশ্ন ওঠে: তারা সংস্কার চায়, না ক্ষমতা চায়?
গণভোটে মানুষ ভোট দিয়েছে ভবিষ্যতের পক্ষে। BNP দাঁড়িয়েছে অতীতের সুবিধাবাদে।
তাদের যুক্তি শুনলে মনে হয়—আইনের বইয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটা অজুহাত খুঁজে এনে তারা জনগণের সিদ্ধান্তকে স্থগিত করে দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতি শুধু কাগজের খেলা না। রাজনীতি নৈতিকতারও প্রশ্ন।
যখন লাখো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়, তখন সেটা কোনো “প্রক্রিয়াগত বিষয়” থাকে না—ওটা রাষ্ট্রের আত্মার ঘোষণা।
আর সেই আত্মার ঘোষণাকেই অবহেলা করেছে BNP।
আরও ভয়ংকর বিষয় কী জানো?
এই দলটাই একসময় স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণভোটের কথা বলত। আজ যখন সত্যিকারের গণভোট এসেছে—তারা পালিয়েছে।
আজ তারা শপথ নেয়নি। কাল তারা রায় মানবে না।
পরশু তারা জুলাই ইতিহাসও অস্বীকার করবে।
এভাবেই গণতন্ত্র ধীরে ধীরে দলীয় স্বার্থের বন্দী হয়।
কিছু দল প্রতিবাদ করেছে—যেমন Bangladesh Jamaat-e-Islami—কিন্তু মূল প্রশ্নটা থেকে যায়: রাষ্ট্র কি চলবে জনগণের ইচ্ছায়, না রাজনৈতিক চালাকিতে?
BNP যে পথ বেছে নিয়েছে, সেটা সংস্কারের নয়—সেটা নিয়ন্ত্রণের। গণভোটকে তারা সম্মান করেনি কারণ গণভোট তাদের হাতের বাইরে।
যেখানে জনগণ শক্তিশালী, সেখানে সুবিধাবাদী রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। BNP সেই শক্তিকেই ভয় পেয়েছে।
আজ যারা চুপ আছে, কাল তারাই বলবে— “গণতন্ত্র কাজ করে না।”
কিন্তু সত্য হলো— গণতন্ত্র কাজ করেছিল। রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হয়েছে।
ইতিহাস খুব ধৈর্যশীল। কিন্তু সে ভুলে না।
আজ যারা জনগণের রায় এড়িয়ে গেল, কাল জনগণই তাদের এড়িয়ে যাবে।