যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এক প্রবাসী সরকারবিরোধী অনলাইন লেখকের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্বর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী লেখালেখি করার প্রতিশোধ হিসেবেই তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত ও সরকারবিরোধী লেখা প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এই লেখালেখির জের ধরেই তাঁর আপন চাচাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন ও কাকা আব্দুল জলিলকে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়—ভুক্তভোগী দেশে ফিরলে বা যেখানেই তাকে পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে। শুধু তাই নয়, হামলা শেষে বাড়ি ছাড়ার সময়ও তারা একই ধরনের হুমকি পুনরায় উচ্চারণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন,
“আমি যুক্তরাজ্যে থাকি, দেশে ফিরিনি। কিন্তু ফেসবুকে আমার সরকারবিরোধী লেখার কারণেই তারা আমার বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা করেছে। মারধরের সময় তারা স্পষ্টভাবে বলেছে—‘ওকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই মেরে ফেলব।’”
প্রাপ্ত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, হামলায় পরিবারের অন্তত দুইজন সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথায় গভীর কাটা জখম, মুখমণ্ডল রক্তাক্ত এবং পিঠে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে আহতরা শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক আতঙ্কের মধ্যেও রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, হামলার পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অভিযুক্তদের হুমকির কারণে পরিবারটি নিজ বাড়িতে থাকা নিয়েই শঙ্কিত এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার কথাও ভাবছে।
একজন স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় স্পষ্ট করে বলে গেছে—ও দেশে ফিরলে বাঁচতে দেবে না। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি।”
মানবাধিকারকর্মীরা এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, একজন প্রবাসী লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে তাঁর পরিবারের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
এক মানবাধিকারকর্মী বলেন,
“মতপ্রকাশের কারণে প্রবাসে থাকা একজন ব্যক্তির পরিবারের ওপর হামলা শুধু অপরাধ নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।”
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে তাঁর পরিবার এবং তাঁর নিজের জীবনও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।