দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের ফিরে আসার আশঙ্কা—বিএনপি কি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি?


দৈনিক আলোড়ন
দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের ফিরে আসার আশঙ্কা—বিএনপি কি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি?

২০২৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে—বাংলাদেশ কি দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও অরাজকতার অন্ধকারে ফিরে যাবে?

তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণঃ অপূর্ব আহমেদ জুয়েলঃ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, রাষ্ট্রে দুর্নীতি, অস্থিতিশীলতা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের প্রভাব বেড়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় ফিরে এলে দেশ আবার সেই ভয়াবহ অন্ধকারে ফিরে যাবে—এ কথা বলা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি তথ্য, রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অতীত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গঠিত বাস্তব বিশ্লেষণ।

 

১. দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ‘Worst Performer’ হিসেবে বিএনপি—উদ্ধৃতি ও রিপোর্ট

২০০১–২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশ পরপর ৫ বার বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নির্বাচিত হয় (TI Corruption Perception Index 2001–2005)।

এটি কাকতালীয় ছিল না; বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ছিল এর মূল কারণ।

 

Transparency International Bangladesh (TIB)-এর রিপোর্ট উদ্ধৃতি:

“Hawa Bhaban became the epicenter of political corruption in Bangladesh.”

“Policy decisions were influenced by unelected power brokers.”

“Massive corruption in power, energy, infrastructure and law enforcement sectors.”

এই তথ্যগুলো সরাসরি আন্তর্জাতিক রিপোর্টে নথিভুক্ত রয়েছে।

ওই সময়ে দুর্নীতির আরও প্রমাণ:

রাষ্ট্রপতির সচিব মোসলেহ উদ্দিন গোল্ডেন গেট কেলেঙ্কারি

বাঁধ–বিদ্যুৎ–রাস্তা প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা কমিশন

দুর্নীতিবাজ এনামুল হক নেগোশিয়েটিং টেন্ডার সিন্ডিকেট

 

এখনো ওইসব লোকজনের অনেকেই বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আছে।

অতএব ২০২৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিস্তার ২০০১–২০০৬ সময়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—এটা খুবই যৌক্তিক আশঙ্কা।

২. সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ—বিএনপি আমলই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সময়

২০০১–০৬ মেয়াদে জঙ্গিবাদ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে লজ্জার মুখে পড়ে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টঃ

৬৩ জেলায় ৪৫০টিরও বেশি বোমা হামলা—বিশ্বে এক দিনে সবচেয়ে বিস্তৃত সমন্বিত জঙ্গি হামলার একটি।

হামলার পর আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা লিখেছিলেন:

“This level of coordination cannot happen without severe intelligence failures or political negligence.” — New York Times, 2005

জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম (বাংলাভাই)

তাদের উত্থানের পেছনে প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা বহু প্রশ্ন তৈরি করে:

 

স্থানীয় প্রশাসন বাংলাভাইকে ‘সহায়তা’ করেছিল বলে BBC রিপোর্ট করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch জানায়:

“Government response to rising militancy was delayed and inadequate.”

যে দলের আমলে জঙ্গিবাদের শেকড় এত গভীর হয়েছিল, তারা আবার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে—এটা বলা অস্বাভাবিক নয়।

৩. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও হরতাল-অবরোধ—অর্থনীতির ধ্বংসযজ্ঞ

বিএনপির রাজনীতির বড় পরিচয় হলো প্রতিহিংসা ও অস্থিতিশীলতার রাজনীতি।

২০১৩–২০১৫ সালে অবরোধ–হরতালে

-১৭৩ জন মানুষ নিহত

-৩,০০০+ গাড়িতে আগুন

-১২০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি (BIDS রিপোর্ট)

-স্কুল–কলেজ বন্ধ

-পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘One of the most violent political periods’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

যে দল বিরোধীদলে থাকতেই মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আইন-শৃঙ্খলা কোন পর্যায়ে যাবে—তা সহজেই অনুমেয়।

৪. রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর অবিশ্বাস—প্রশাসন ভেঙে পড়বে

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের বড় সমস্যা হলো—দলটি:

-সেনাবাহিনীকে সন্দেহের চোখে দেখে

-পুলিশ প্রশাসনকে প্রতিশোধের টার্গেট বানাবে

-বিচার বিভাগকে চাপের মুখে ফেলবে

-গোয়েন্দা সংস্থাকে দলীয়করণ করবে

যুক্তরাষ্ট্রের CSIS (Center for Strategic & International Studies) এক রিপোর্টে বলে:

“BNP lacks structural preparedness to run a modern state machinery.”

অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনা অচল হয়ে পড়বে—যা সরাসরি দেশের ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবে।

৫. অর্থনীতি—বিনিয়োগ থেমে যাবে, উন্নয়ন ফিরে যাবে ১০–১৫ বছর পেছনে

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতি কেন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

কারণ—

১. ব্যবসায়ীরা বিএনপির ওপর আস্থা রাখে না

২০২০ সালে FBCCI-এর এক জরিপে ৭২% ব্যবসায়ী বলেছেন:

“BNP in power would increase political uncertainty.”

২. আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা BNP–Jamaat শাসনকে ‘Unstable period’ বলেছে

JICA ও ADB-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০০১–২০০৬ সময়ে:

 

-প্রকল্প বাস্তবায়ন হার কমে যায়

-চাঁদাবাজির ভয় বাড়ে

-রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়

যদি এসব আবার ফিরে আসে—বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) অর্ধেকে নেমে আসবে, যা অর্থনীতির জন্য হুমকি।

৬. মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব—বিএনপি ক্ষমতায় এলে উদার বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে

আন্তর্জাতিক গবেষণা (Stanford University, Religious Politics Unit) জানিয়েছে—

“BNP has historically aligned with Islamist political forces for electoral benefits.”

অর্থাৎ ক্ষমতায় আসলে মৌলবাদী দল এবং গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হবে।

এর ফলে:

-মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে

-সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার আশঙ্কা বাড়বে

-ব্লগার–লেখক–সাংবাদিক হুমকির মুখে পড়বে

-নারী অধিকার পিছিয়ে যাবে

 

যে বাংলাদেশ নিজেদের আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাইছে—সেই বাংলাদেশ মৌলবাদী রাজনীতির ক্ষতির মুখে পড়বে।

শেষ কথা: ২০২৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে—এটি হবে দেশের জন্য সরাসরি জাতীয় হুমকি

তথ্য, রিপোর্ট, অতীত শাসন অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার:

বিএনপি ক্ষমতায় এলে—দুর্নীতি বাড়বে, জঙ্গিবাদ বাড়বে, অস্থিতিশীলতা বাড়বে, অর্থনীতি ধ্বংস হবে, প্রশাসন অচল হবে।বাংলাদেশ এখন যে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পর্যায়ে আছে বিএনপি সেই অবস্থাকে উল্টিয়ে দিতে পারে কয়েক বছরের মধ্যেই।এটাই বাস্তব হুমকি।