
অপূর্ব আহমেদ জুয়েল:– বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বহু বছর ধরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে সাংবাদিকদের দমন করা হচ্ছে, স্বাধীন সংবাদ প্রচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতার আসল স্বাদ পেতে যেন তারা এই স্বাধীনতার কথাগুলো একদম ভুলে যায়।
বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়—যেখানে বিএনপির পদ বা সমর্থকরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেখানে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ, হুমকি, এবং মনগড়া কেলেঙ্কারি ঘটানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের উপরে ভয় আর দমন চালানো হচ্ছে। যারা সত্য বলার চেষ্টা করছে, তাদেরকে ভীত করা হচ্ছে বা তাদের সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধুই রাজনৈতিক ভণ্ডামি নয়—এটি গণতন্ত্রের চরম অবমাননা।
সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চোখ, কণ্ঠস্বর ও রক্ষক বলা হয়। কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতার সুযোগ পায়, তখন সেই চোখ এবং কণ্ঠকে তারা নিজের স্বার্থে দমন করে। “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা” তাদের কাছে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান, বাস্তবে এটি তাদের হাতের কৌশল এবং ক্ষমতার খেলার সরঞ্জাম।
এটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দ্বৈত চরিত্রের চরম প্রমাণ। ক্ষমতার বাইরে তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার হুমকি বলে চেঁচায়, কিন্তু ক্ষমতার কাছে গেলে সেই স্বাধীনতার গলায় চেপে ধরার কাজ শুরু হয়। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে সত্যিকারের কাজ করতে চায়, তাদের জন্য এটি এক অকথ্য সতর্কবার্তা—কোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মান বজায় রাখে না, যদি না নাগরিকরা এবং সাংবাদিকরা জেগে থাকে।