
অপূর্ব আহমেদ জুয়েল:- বাংলাদেশের সংবিধান একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, অন্যদিকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নাস্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ অমঙ্গলজনক। ইসলাম ধর্মের অনেক নিয়ম ও বিশ্বাস বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বৈজ্ঞানিক বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্র যদি এই ধর্মকে প্রাধান্য দেয়, তবে তা মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা, সমানাধিকার এবং যৌক্তিক চিন্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
প্রথমত, ইসলামের ভিত্তি, কোরআন ও হাদিস, প্রায়শই অবৈজ্ঞানিক এবং অযৌক্তিক। পৃথিবী, মানবজীবন, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে যে নিয়মকানুন প্রস্তাব করা হয়েছে, তা প্রায়শই অবাস্তব এবং যুগান্তর অযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, নারীর অধিকার হ্রাস, কন্যা সন্তান ও মহিলাদের প্রতি বৈষম্য, শাস্তি-প্রণালীতে মারাত্মক বিধিনিষেধ—এগুলো ধর্মীয় শাস্ত্রের “আদেশ” হিসেবে প্রণীত। যদি একটি ধর্মই নারীর স্বাধীনতা সীমিত করে, তাহলে সে কখনো সমানাধিকার বা ন্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মের হিংসাত্মক ও ভয়ের ওপর ভিত্তি করা শাস্তির ধারণা নাস্তিকদের জন্য বিপজ্জনক। নাস্তিক বা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ভিত্তিতে শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড, বা সামাজিক অবমাননার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এটি স্বাধীন চিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং ব্যক্তিগত মত প্রকাশের পথ বন্ধ করে। এই ধরনের ধর্ম রাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব ফেললে, মানুষকে জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাতে হয়।
তৃতীয়ত, ইসলামের ধর্মীয় বিধি ও আচরণ নীতি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি মানবাধিকারের বিরোধী। গায়ে হলুদ, পোশাক নিয়ন্ত্রণ, ইসলামিক বিচারের নিয়ম, এবং ইসলামের প্রচলিত বিচারে হস্তক্ষেপ—এই সব কিছুর মধ্যে ধর্মীয় ভন্ডামি স্পষ্ট। ধর্মের নামে যেসব আচরণ অনুমোদিত, তা প্রায়ই শৃঙ্খলাভোগী, দমনমূলক এবং ব্যভিচারের প্রতি উদাসীন। ইসলামিক আইন এবং সামাজিক নিয়ম নারীর স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার, এবং নাস্তিকদের মৌলিক অধিকার হ্রাস করে।
চতুর্থত, ইসলামের অন্তঃকরণ এবং বিরোধিতা নিষিদ্ধ করার প্রচলন যুক্তির সঙ্গে বিরোধী। কোরআন এবং হাদিসে নাস্তিক, অন্য ধর্মাবলম্বী এবং সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি, শাস্তি এবং প্ররোচনার নিয়ম রয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ধর্মটি অপরিকল্পিত ভয়ের ওপর ভিত্তি করে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যা মুক্ত চিন্তাভাবনার সঙ্গে অসঙ্গত। নাস্তিক বা মুক্তচিন্তা সম্পন্ন নাগরিকদের জন্য এটি একটি সরাসরি হুমকি।
পঞ্চমত, ইসলাম ধর্মের বহুবিবাহ, কন্যা ও নারীর প্রতি বৈষম্য এবং শাস্তিমূলক নিয়ম ধর্মীয় ভন্ডামির চরম উদাহরণ। এটি শুধু নারীর স্বাধীনতা সীমিত করে না, বরং সমাজকে গঠনের মৌলিক ন্যায়বিচার এবং সমতার পথে বাধা দেয়। নাস্তিক হিসেবে বলা যায়, ধর্ম যখন মানুষের স্বাধীনতা, বিজ্ঞান, এবং যুক্তির চ্যালেঞ্জকে দমন করে, তখন তা সমাজের উন্নতি ও মানবাধিকারের মূলনীতির শত্রু।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া মানে একটি অবৈজ্ঞানিক, হিংসাত্মক এবং নিপীড়নমূলক কাঠামোকে সমর্থন করা। একজন নাস্তিক হিসেবে বলা যায়, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সমানাধিকার, এবং যৌক্তিক চিন্তার জন্য হুমকি। প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করলে, সকল ধর্ম, নাস্তিকতা এবং দর্শন সমানভাবে সম্মানিত হবে, এবং রাষ্ট্র বাস্তবে উদার ও সমানাধিকারমুখী হয়ে উঠতে পারবে। ইসলাম ধর্মের ভন্ডামি এবং অযৌক্তিকতা প্রকাশ করা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, যাতে রাষ্ট্র কর্তৃক আর কোন ব্যক্তি শৃঙ্খলাভোগী বা দমনমূলক নীতি দ্বারা প্রভাবিত না হয়।