বাংলাদেশ ২০২৫: গণউন্মত্তা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলে আইনের শাসন বিপন্ন


দৈনিক আলোড়ন
বাংলাদেশ ২০২৫: গণউন্মত্তা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলে আইনের শাসন বিপন্ন

অপূর্ব আহমেদ জুয়েল:- ২০২৫ সালে বাংলাদেশে এক উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে—মব বা গণউন্মত্ততার নামে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং দখলদারির বিস্তার। অনেক ক্ষেত্রে আইনের শাসনের পরিবর্তে “মব জাস্টিস” বা জনতার বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। আদালত, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার পরিবর্তে কিছু সংগঠিত বা উসকানিমূলক গোষ্ঠী নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে।

গুজব, সন্দেহ বা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, প্রকাশ্য মারধর, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই মানুষ শাস্তি পাচ্ছে। এতে নিরপরাধ ব্যক্তির জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আইনের মূলনীতি—“অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ”—বাস্তবে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে চাঁদাবাজির ঘটনাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী বা সংগঠিত গোষ্ঠী ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে। ভয়ভীতি ও সহিংসতার হুমকির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সমাজে এক ধরনের ভীতিকর নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে।

দখলদারির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জমি বা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, হুমকি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মালিকদের উচ্ছেদ—এসব অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, দুর্বল বা রাজনৈতিকভাবে অসুরক্ষিত মানুষরা বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মব সংস্কৃতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক হুমকি। যখন জনতার উন্মত্ততা আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পায়, তখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়, বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এবং সমাজে স্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়।

একটি কার্যকর রাষ্ট্রে আইনের শাসনই সর্বোচ্চ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। নইলে ২০২৫ সালের বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আইনের শাসন থেকে সরে গিয়ে ভয়, শক্তি ও গণউন্মত্ততার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।